Header Ads

"আসুন আমরা সকলে একটি করে দেশীয় ফলজ বৃক্ষ রোপন করি ও অন্যকে অনুপ্রানিত করি এবং তার যত্ন করি।"

"আসুন আমরা সকলে একটি করে দেশীয় ফলজ বৃক্ষ রোপন করি ও অন্যকে অনুপ্রানিত করি এবং তার যত্ন করি।"

Palm Tree


এখনে দেশী ফলজ বৃক্ষ বলতে বুঝানো হয়েছে যে:

1) সরাসরি দেশীয় ফলের ভাল বীজ হতে জন্ম নেয়া চারা গাছ।
2)অনেক ঔষধী গাছ ও দেশীয় ফলজ গাছের আওতায় পরে।
3)কলম পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদিত চারা গাছ নয়।
4) হাইব্রিট পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদিত চারা গাছ নয়।

আসুন জেনে নেই দেশীয় বা মৌসুমী ফলজ বৃক্ষ ও দেশীয় ঔষধী বৃক্ষের সংক্ষেপে কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা:-

উপকারিতা:-

1) এ জাতীয় গাছ কলম বা হাইব্রিট গাছ হতে অনেক বড় হয় এ জাতীয় গাছ।
2) এ গাছ কলম গাছ হতে অনেক শক্ত হয়।
3) অনেক বছর বেচে থাকে কলম বা হাইব্রিট গাছ হতে।
4) আকারে বড় ও শক্ত হওয়ার ফলে কাল বৈশাখী ঝরকে মুকাবিলা করতে পারে বনজ বৃক্ষের মত যা কলম বা হাইব্রিট গাছ পারেনা।
5) কলম ও হাইব্রিট গাছ হতে আকারে বড় ও শক্ত হওয়ার ফলে এ জাতীয় গাছ হতে ভাল কাঠ বেশি পরিমানে পাওয়া যায়।

অপকারিতা:

1) এ জাতীয় গাছ কলম ও হাইব্রিট গাছ হতে তুলনামুলক বৃদ্ধি আস্তে আস্তে হয়।
2) এ জাতীয় গােছ কলম ও হাইব্রিট গাছ হতে তুলনামুলক 7-8 বছর বেশি সময় পর ফল আসে।
3) এ জাতীয় গােছ কলম ও হাইব্রিট গাছ হতে তুলনামুলক বেশি যায়গা নেয়।
4) এ জাতীয় গােছ কলম ও হাইব্রিট গাছের মত শহরের ছাদে রোপন করা সম্বভ নয়।

দেখা গেল যে দেশীয় ফলজ বৃক্ষের উপকারিতাই বেশি। তাই আমরা বৃক্ষ রোপন করলে প্রথমেই দেশীয় ফলজ বৃক্ষকেই প্রাধান্য দিব তার পর কলম ও হাইব্রিট জাতীয় গাছ, ঔষধী, বনজ বৃক্ষ।

বিস্তারিত আলোচনা:-
আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ। 1971 সালে মুক্তি যোদ্ধে বিজয় এর পর থেকে এখন পর্জন্ত বাংলাদেশের আয়তন প্রায় একই রয়েছে কিন্তু জনসংখ্যা বিপুল হারে বৃদ্ধী পাচ্ছে।যেহেতু বাংলার জনসংখ্যা বিপুল হারে বৃদ্ধী পাওয়ার পাশাপাসি থাদ্য চাহিদাও বৃদ্ধী পাচ্ছে।আর এ বিসাল জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা পুরন হয় প্রধানত ফসলি জমি হতে উৎপন্য নানান ফসল বা শস্য যেমন ধান, গম,ডাল,শাক ও সব্জি ইত্যাদি। আর দিতীয় উৎস হচ্ছে নানান প্রকার ফল, তা বেসির ভাগই বিদেশী ফল ও কিছু পরিমানে দেশী মৌসুমী ফল এগুলোও আবার ফরমালিন যুক্ত।দেশীয় মৌসুমী ফল খাদ্যের চাহিদা পুরনে তেমন একটি ভূমিকা রাখতে পারছেনা নানান কারনে, যেমন,গাছ কাটা,ঝরে গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়া,বসত বাড়ি তৈরি করা ও বনজ গাছ ওস সুন্দর্য বর্ধক গাছ রোপনের উপর প্রায় সকলে বেশি মনোজুগি হওয়া ইত্যাদি। এতে বলা যায় যে হাতে গুনা কয়েকটি মৌসুমী ফলজ গাছ ছাড়া প্রায় সকল ফলজ গাছই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশ থেকে।
একদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে ফসলি জমি কমছে,ফলজ গাছ কাটা হচ্ছে ঝরে ভেঙ্গে যাচ্ছে কিন্তু তেমন একটা লাগানো হচ্ছে না। আর এ বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মাথায় রেখে যে সকল হাইব্রিট ও কলম প্রকৃতির গাছ রোপন করা হচ্ছে তাও আবার সিমিত ও বাণিজ্যিক ভাবে।
আর যদিও কলম ও হাইব্রিট ফলজ গাছ কিছু পরিমানে ব্যাক্তি গত ভাবে তা কোন কারনে নষ্ট হয়ে গেলে সেই একই স্থানে আমরা আর একটি গাছ লাগাতে আমরা ভুলে যাই। হাইব্রিট ও কলম জাতীয় গাছ নষ্ট হয় বেশি দেশিয় ফলজ গাছের তোলনায়। হাইব্রিট ও কলম গাছ রোপনের অল্প সময় পর বেশি পরিমানে ফল দেয় কিন্তু তা আবার দেশিয় ফলজ গাছ এর তোলনায় কম বছর দেয়। হাইব্রিট ও কলম গাছ আকারে ছুট হয় ও কম বছর টিকে থাকে তাই নানান প্রাকৃতিক দূযোগে দেশিয় ফলজ গাছের মত উপকারে আসে না।
কলম ও হাইব্রিট গাছ রোপন করব যায়গা ভেদে। মানে হচ্ছে যে, যে সকল সল্প যায়গাতে আমরা দেশিয় ফলজ গাছ রোপন করতে পারবনা যায়গা সল্পতার কারনে সে সকল যায়গায় আমরা কলম ও হাইব্রিট ফলজ গাছ রোপন করব।
যেহেতু দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধী পাচ্ছে তাই এ বিসাল জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা ফসল বা রবি সশ্য হতে কমিয়ে দেশিয় মৌসুসী ফলের উপর বাড়ানো যায়।এতে করে দেশের বিসাল জনসংখার ভিটামিন,পুষ্টি ও খাদ্য চাহিদা পুরন হবে এবং এতে কার্বোহাইড্রেট গহন কমবে ও এন্টিআক্সিডেন্টের গ্রহন বাড়বে।
বনজ এ সুন্দর্য বর্ধক গাছ প্রধানত যে সকল উপকার করে তা হল যে,বনজ এ সুন্দর্য বর্ধক গাছ আকারে বড় ও শক্ত হওয়ায় এতে বেশি ও ভাল মানের কাঠ পাওয়া যায় এবং জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন পাওয়া যায় আর সাথে স্থানের সুন্দর্য বৃদ্ধী করে।উপরে উল্যেখিত উপকারিতা গুলি দেশীয় মৌসুমি অনেক ফলজ গাছ দিয়ে থাকে ও এগুলোর পাসাপাসি বাড়তি ফলও দিয়ে থাকে।
তাই বলি যে আসুন আমরা আজ থেকে 8/10 বছর একটি বনজ গাছ না রোপন করে একটি দেশীয় মৌসুমী ফলজ বৃক্ষ বা গাছ রোপন করি।
"আসুন আমরা সকলে একটি করে দেশীয় ফলজ বৃক্ষ রোপন করি ও অন্যকে অনুপ্রানিত করি এবং তার যত্ন করি।"
আসুন এবার জেনে নেই দেশীয় মৌসুমী ফলজ বৃক্ষ রোপনের উপকারিতা:-
খাদ্য চাহিদা: যদি আজ আমি, কাল আপনি,পোরসু অন্যকেহ এভাবে 8/10 বছর আমরা দেশীয় ফলজ বৃক্ষ বোপন করে যাই আমরা তাহলে 15-25 বছর পর দেশীয় বা মৌসুমি ফলের উৎপাদন অনেক পরিমানে বৃদ্ধি পাবে।ফলের উৎপাদন বৃদ্ধী পেলে খাদ্যের চাহিদাও মিটাবে বেশি পরিমানে।
জীব বৈচিত্র রক্ষা:যে সকল জীব, পসু, পাখি নানান ফল খেয়ে বেচে থাকত তারা আজ হুমকির মুখে ফলজ গাছ কমে আসার কারনে।বেশি পরিমানে ফলজ গাছ রোপনে সে সকল জীবের বেচে থাকা অনেক অংসে নিশ্চাত হবে।
প্রাকৃতীক দূর্যোগ হতে রক্ষা: দেশীয় ফলজ গাছের পরিমান বাংলাদেশে বেশি হয়, আবার তা যদি আকারে বড় ও শক্ত হয় তা হলে প্রাকৃতীক দূর্যোগ মুকাবিলাতে গুরুত্তপূর্ন ভূমিকা রাখবে।
দেশের অর্থনিতিতর অবদান: যদি দেশে প্রচুর পরিমানে ফল উৎপাদন হয় তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশে রপ্তানি করে প্রচুর অর্থ পাওয়া যাবে।ফল দেশের অর্থনিতিতে দুই ভাবে অবদান রাখতে পারে (1) সরকারি ভাবে (2) ব্যাক্তি গত ভাবে।
# সরকারি ভাবে: বাংলাদেশের নানান সরকারি প্রতিষ্টানের জায়গাতে যদি দেশিয় ফলজ গাছ রোপন করে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়, তাহলে উৎপাদিত ফল টেন্ডার দিয়ে বিক্রি করে প্রচুর অর্থ সরকার আয় করতে পারবে। সাথে কম খরচে তালগাছ রাস্তার সাইড দিয়ে লাগালে 20 বছর পর এটা একট প্রদর্শনীয় স্থান হতে পারে এবং প্রচুর অর্থ অর্জন হবে। যা দেশ জাতী, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য খুব প্রয়োজন। 

#  ব্যাক্তি গত ভাবে: ব্যাক্তি গত ভাবে যদি পতিত বা খালি যায়গাতে মৌসুমি ফলজ গাছ রোপন করে ফল উৎপাদর বাড়ানো যায় তাহলে ব্যাক্তি গত চাহিদা মিটিয়ে বাকি ফল গুলি বাজারে বিক্রি করে অর্থ আয় করা সম্বব।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধী: দেশের নানান মৌসুমী ফল গুলিতে নানান ধরনের ভিটামিন,খনিজ,মিনারেল এর পরিমান ফল ও মৌসম ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।অর্থাৎ এমন বলা যায় যে মানুষ ও পসু পাথির নানান মৌসমে যে সকল রোগ হতে পারে ঐ সকল উপাদানের অভাবে সে সকল উপাদানই সে সকল ফলে পরিমানমত থাকে। আমরা যদি মৌসুমি ফলের উৎপাদন বৃদ্ধী করতে পারি তাহলে মানুষ পরিমানমত ফলপাবে ও খাবে তাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধী পাবে।
ফরমালিন প্রয়োগ কমবে: বর্তমানে যেকোন দেশীয় ফলের উৎপাদন কম তাই ফলের মূল্য ও বেশি।তাই এ বেশি মূল্যের ফল কোন ব্যাবসায়ীই নষ্ট হতে দিতে চায়না তাই বেশিদিন সংরক্ষনকরে বিক্রি করার উদ্ধেশ্যে ফরমালিন ব্যাবহার করে।যদি ফল উৎপাদন বৃদ্ধী পায় এতে মূল্যও তুলনামুলক কমবে এবং ফরমালিন প্রয়োগ কমবে।
আঞ্চলিক ভাবে চাহিদা মিটবে: অঞ্চল বা জেলা ভিত্তিক ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে তাতে ঐ জেলার বা অঞ্চলের চাহিদা সে অঞ্চলের ফল থেকেই মিটবে। মানে হচ্ছে যে, এক জেলার ফলের চাহিদা মিটাতে অন্য জেলা থেকে ফল পরিবহন ব্যাবস্থার মাধ্যমে আনতে হবে না।
প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতীয় ফলজ গাছ রক্ষা: আমরা যদি সকলে দেশীয় মৌসুমী ফলজ বৃক্ষ রোপন সুরু করি তাহলে দেখা যাবেযে অনেক প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতীয় ফলজ বৃক্ষ রক্ষা পাবে বিলুপ্তির কবল থেকে।
উপরের উপকারিতা গুলো ছাড়াও আরও আনেক গুরুত্তপূর্ন উপকারিতা রয়েছে।
সর্বশেষে তাই আবার ও বলি:................
"আসুন আমরা সকলে একটি করে দেশীয় ফলজ বৃক্ষ রোপন করি ও অন্যকে অনুপ্রানিত করি এবং তার যত্ন করি।"

No comments

নাঈম রেজা. Powered by Blogger.